বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক তারকা টেলি সামাদ: হাসির আড়ালের অনন্য শিল্পীর জীবনগাথ
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কৌতুক তারকা টেলি সামাদ: হাসির আড়ালের অনন্য শিল্পীর জীবনগাথ
![]() |
| আইটিবিডি সিক্সটিনাইন নিউজ স্টোরি: |
🗞️আইটিবিডি সিক্সটিনাইন নিউজ স্টোরি:
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনয়ের এক উজ্জ্বল নাম টেলি সামাদ—এক শিল্পী যিনি চার দশকের দীর্ঘ যাত্রায় দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অগণিত হাসি আর আনন্দ।
মূল নাম আবদুস সামাদ। জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে। বড় ভাই খ্যাতিমান চারুশিল্পী আব্দুল হাই, আর সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন তাঁর চাচা—শিল্প-সংস্কৃতিমণ্ডিত পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা টেলি সামাদ ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক—কন্যা সোহেলা সামাদ কাকলী ও পুত্র দিগন্ত সামাদ।
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক। পরের বছর ‘নয়নমনি’ আর ‘পায়ে চলা পথ’ তাঁকে এনে দেয় জনপ্রিয়তার ঝলক।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি—অভিনয় করেছেন ৬০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে।
শুধু অভিনয় নয়—‘মনা পাগলা’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা ও ৫০টিরও বেশি গানে কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন-এর দেওয়া ডাকনাম “টেলি সামাদ”—যেটি পরিণত হয় বাংলা কৌতুক অভিনয়ের এক চিরঅমর পরিচয়ে।
২০১৫ সালের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছিল তাঁর অভিনীত শেষ ছবি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে টেলি সামাদ আজও এক অনন্য অধ্যায়। তাঁর হাসি, তাঁর অভিনয়—চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে চিরকাল।


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url