৭ জানুয়ারি | জন্মদিনের আলোয় আঁখি আলমগীর
![]() |
🌸🎂
“দিন থাকিতে হাঁইটা যাইও, দেরি কইরো না…”
এই একটি গানেই যেন আটকে আছে এক সময়ের ক্ষুধা, কষ্ট আর মানুষের নীরব আর্তনাদ।
মাস্টারপিস চলচ্চিত্র ‘ভাত দে’-তে শিশুশিল্পী হিসেবে আঁখি আলমগীরের কণ্ঠে লিপ দেওয়া এই জীবনমুখী গান আজও হৃদয়ে কাঁপন তোলে।
‘ভাত দে’ ছবিতে আঁখি আলমগীর ছিল আনোয়ার হোসেন ও আনোয়ারার কন্যা—এবং একই সঙ্গে শাবানা চরিত্রের শৈশব রূপ। ছোট্ট বয়সে যে গভীরতা, যে অভিব্যক্তি সে দেখিয়েছিল, তা আজও বিরল।
বাবা আনোয়ার হোসেন দোতারা হাতে পথে পথে গান গেয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ভাতের দুর্ভিক্ষে মানুষ গান শোনার অবকাশ পায় না। ক্ষুধার কাছে হার মানে শিল্প।
মা আনোয়ারা ভাত চুরি করে মেয়েকে খাওয়ায়—আর সেই অপরাধের দায় এসে পড়ে শিশুটির ওপর। মানুষের নির্মম পিটুনিতে ভেঙে পড়ে আঁখি।
বাবা অনেকদিন পর ঘরে ফিরলে মেয়ের মুখে সেই কষ্টের গল্প—আঁখির চোখ, কণ্ঠ, সংলাপ বলার ভঙ্গি—সব মিলিয়ে দৃশ্যগুলো হয়ে ওঠে অবিস্মরণীয়।
ক্ষুধার যন্ত্রণায় যখন মা অন্য আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়, তখন মায়ের জন্য আঁখির আকুলতা দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায় নিঃশব্দে।
এই অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৪ সালে আঁখি আলমগীর অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
🎶 আঁখি আলমগীরের উল্লেখযোগ্য গানগুলো—
• দিন থাকিতে হাঁইটা যাইও — ভাত দে
• বুকে ধরে রাখব ছবি আঁকব — বিদ্রোহী বধূ
• শহরের কোলাহল ছেড়ে — প্রথম প্রেম
• গান যদি জীবনের মতো হয় — কত যে আপন
• সুখের আরেক নাম প্রেমের অসুখ — সত্যের মৃত্যু নেই
• এখনো সে যে এলো না — রাক্ষস
• মায়ের কোলে যেন চাঁদ নেমে এলো — কন্যাদান
• এত ছোট জনম নিয়া জগতে আসিয়া — আসামী বধূ
শৈশবেই যিনি হয়ে উঠেছিলেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—
জন্মদিনে সেই শিল্পীর প্রতি রইল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর স্মৃতির উষ্ণ অভিনন্দন। 💐


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url