কে এই মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কি তার পরিচয়
Who is Mostofa Sarwar Farooki and what is his identityকে এই মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কি তার পরিচয়
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে যোগ দিতে যাচ্ছেন। নতুন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে তার নামটি অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে।
রোববার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ফারুকীসহ চারজন শপথ নেবেন। ফারুকী ছাড়াও শপথ নেবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, আকিজ-বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিন এবং ড. সাইদুর রহমান।
এখন প্রশ্ন হলো কে এই ফারুকী-
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং নাট্যনির্মাতা। ১৯৭৩ সালের ২ মে ঢাকার নাখালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা ফারুকী দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অসাধারণ অবদানের জন্য পরিচিত। তিনি বাংলাদেশি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন:
ফারুকী তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশাকে ২০১০ সালে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার নাম ইলহাম নুসরাত ফারুকী।
ক্যারিয়ার:
ফারুকীর মিডিয়া জগতে প্রবেশ ১৯৯৯ সালে, এবং তিনি ছোট পর্দায় অসাধারণ কিছু টেলিফিল্ম ও সিরিয়াল নির্মাণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য টেলিফিল্মগুলির মধ্যে রয়েছে *স্পার্টাকাস ৭১*, *চড়ুইভাতি*, *কানামাছি*, এবং *এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি*। সিরিয়াল হিসেবে *একান্নবর্তী*, *সিক্সটিনাইন* এবং *৪২০* জনপ্রিয় হয়।
চলচ্চিত্রে আগমন:
ফারুকী তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন ২০০৪ সালে *ব্যাচেলর* সিনেমার মাধ্যমে। তবে, তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিনেমা ছিল *থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার* (২০০৯), যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে এবং ৮৩ তম অস্কারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। *টেলিভিশন* (২০১২), *পিঁপড়াবিদ্যা* (২০১৩), এবং *ডুব* (২০১৭) তার পরবর্তী বড় কাজগুলো।
পুরস্কার:
ফারুকীর চলচ্চিত্র *টেলিভিশন* বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছে, এবং *মেড ইন বাংলাদেশ* (২০১৯) ছবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার উপর একটি তীক্ষ্ণ স্যাটায়ার প্রদর্শন করেছে। এছাড়া, *ডুব: নো বেড অব রোজেস* সিনেমা বাংলাদেশকে ৯১ তম অস্কারে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেয়।
সমালোচনা:
ফারুকী তার প্রতিটি ছবির মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তবে তার *ডুব* সিনেমাটি সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জীবনের কিছু অংশের সঙ্গে মিল থাকার কারণে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে, সিনেমাটি *দুবাই ফিল্ম মার্কেট অ্যাওয়ার্ড* সহ নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে।
অন্যান্য কাজ:
ফারুকী শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, তিনি লেখালেখিও করেন। তার *রাফকাট* নামক একটি বই প্রকাশিত হয়েছে এবং মাঝে মাঝে কবিতা লেখেন।
ফারুকী বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এবং দেশের সাংস্কৃতিক খাতে পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করছেন।

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url