উত্তম আকাশের পরিচালনায় নির্মিত ছবিগুলোর মধ্যে ‘রঙিন রংবাজ’
উত্তম আকাশের পরিচালনায় নির্মিত ছবিগুলোর মধ্যে ‘রঙিন রংবাজ’ নিঃসন্দেহে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। এটি ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের ক্লাসিক রাজ্জাক–কবরী অভিনীত ‘রংবাজ’ ছবির রিমেক। তবে শুধু রিমেক নয়—নব্বই দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি ওমর সানী–মৌসুমীকে কেন্দ্র করে ছবিটিকে নতুন সময়ের দর্শকের জন্য নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
ছবির শুরুটাই ছিল চমকপ্রদ। কাহিনির আগে দেখা যায় মহরতের দৃশ্য—যেখানে স্বয়ং রাজ্জাক ও কবরী সাদর অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন ওমর সানী ও মৌসুমীকে। এই মুহূর্তটা যেন দুই প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের সম্মানজনক সেতুবন্ধন তৈরি করে দেয়।
রংবাজ চরিত্রে ওমর সানী ছিলেন বেশ সাবলীল ও বিশ্বাসযোগ্য। তার অভিনয়ে নব্বই দশকের নায়কোচিত দাপট স্পষ্ট ছিল। ছবির সব গানই ছিল উপভোগ্য, তবে সবচেয়ে মজার অংশ আসে ‘হৈ হৈ হৈ রঙ্গিলা’ গানের আগে।
গান শুরুর আগের রোমান্টিক সংলাপে হঠাৎ মৌসুমীর সন্দেহ—“কে যেন আমাদের কথা শুনছে!”
ওমর সানীর জবাব—“তাই তো!”
তারপর পাশ ফিরে মুচকি হেসে বলে—“রাজ্জাক–কবরী আমাদের কথা শুনছে।”
এই সংলাপটা আগের ছবির সঙ্গে নতুন ছবির সরাসরি সংযোগ তৈরি করে, আর দর্শকের মুখে এনে দেয় হাসি—চমৎকার এক মেটা-মোমেন্ট।
মৌসুমীর সৌন্দর্য ও অভিনয় ছবির অন্যতম বড় শক্তি। বিশেষ করে ‘সে যে কেন এলো না’ গানে তিনি ছিলেন অনবদ্য—রূপ, আবেগ আর পারফরম্যান্স মিলিয়ে শতভাগ সফল।
শেষের দিকে প্রবীর মিত্র গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেন। তার উপস্থিতি ছবিকে আরও ওজনদার করে তোলে। পাশাপাশি আহমেদ শরীফ ও কাবিলা নিজেদের চরিত্রে ছিলেন দুর্দান্ত, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় গল্পকে শক্ত ভিত দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘রঙিন রংবাজ’ ছিল উত্তম আকাশের হাতে গড়া এক পরিপাটি, বিনোদনসমৃদ্ধ ও সুপরিকল্পিত ছবি—যেখানে রিমেকের ঝুঁকি থাকলেও ডিরেকশন, অভিনয় আর স্মৃতির মেলবন্ধনে তা হয়ে উঠেছিল দর্শকপ্রিয়।


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url