১৯৯২ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল।
➡ জাফর ইকবাল জন্ম২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫০. মৃত্যু: ৮ জানুয়ারি ১৯৯২
অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী। তিনি আশির দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯২ সালে আজকের এই দিনে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল।
গান করতেন। ছিলেন নায়ক। ব্যক্তিত্ব, পোশাক, স্টাইল সব মিলিয়ে তিনি যেন ছিলেন এক গল্পের রাজকুমার। তিনি প্রয়াত চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল। ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
সামাজিক প্রেমকাহিনি ‘মাস্তান’–এর নায়ক জাফর ইকবাল রোমান্টিক নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে এক গ্রামীণ তরুণের চরিত্রেও দর্শক তাঁকে গ্রহণ করেন।
তাঁর বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজও বিখ্যাত সংগীত পরিচালক। এসব সূত্রে জাফর ইকবাল প্রথমে গায়ক হিসেবেই পরিচিতি পান। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে তিনি নিজের একটি ব্যান্ড গড়ে তোলেন। বন্ধু ফারুক, তোতা ও মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ব্যান্ড দল ‘রোলিং স্টোন’।
ভাই আনোয়ার পারভেজের সুরে নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত ‘বদনাম’ ছবিতে প্রথম গান করেন ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও/আমি তো এখন আর নই কারও’। প্রথম প্লেব্যাকেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান এই অভিনেতা। এরপর সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাঁকে দিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করিয়েছিলেন। তাঁর জনপ্রিয় কিছু গানের মধ্যে ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী হয়ে কারও ঘরনি’, ‘তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন’, ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ অন্যতম। নিজের কণ্ঠে ‘কেন তুমি কাঁদালে’ শিরোনামে একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের যুগে ‘সুখে থাকো নন্দিনী’ গানটি গেয়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর উদযাপন বিশেষ অনুষ্ঠানে গেয়েছিলেন ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে’ গানটি। পরে শিল্পী রফিকুল আলমও গেয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের আগে জাফর ইকবাল চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। গান গেয়েই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতা খান আতাউর রহমানের সঙ্গে। তাঁর অভিনীত প্রথম ছবির নাম ‘আপন পর’। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালে। খান আতাউর রহমান পরিচালিত এ ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কবরী।
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। ‘সূর্যগ্রহণ’ ও এর সিকুয়েল ‘সূর্য সংগ্রাম’ চলচ্চিত্রে ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় শুরু হয় নতুন যাত্রা। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘দিনের পর দিন’, ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘পরিবর্তন’, ‘সিআইডি’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘ফুলের মালা’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘ছোবল’, ‘প্রেম বিরহ’, ‘বন্ধু আমার’, ‘গর্জন’, ‘অবুঝ হৃদয়’ ‘নয়নের আলো’, অন্যতম। প্রায় দেড় শ ছবিতে অভিনয় করেন জাফর ইকবাল। শহরের রোমান্টিক এবং রাগী যুবক চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকজনপ্রিয়তা পায়, যদিও সব ধরনের চরিত্রেই ছিল তাঁর সমান বিচরণ।
জুটি হিসেবে শুধু ববিতা নন, চম্পা, সুচরিতা, রানী, দিতি—সবার সঙ্গে দর্শক তাঁকে পছন্দ করেছিল।


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url