ইতিহাস (২০০২) মুভি সম্পর্কিত কিছু তথ্য **বাংলাদেশের কালজয়ী চলচ্চিত্র: কাজী হায়াতের “ইতিহাস”**

 “আমি জীবন্ত একটা লাশ এটাই নতুন ইতিহাস ᶩᶩ”

 

                       **বাংলাদেশের কালজয়ী চলচ্চিত্র: কাজী হায়াতের “ইতিহাস”**

একটি প্রতিভার অকাল মৃত্যু, একটি পরিবারের ভাঙন, এবং বাবার স্নেহ ও বোনের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে কাজী হায়াতের পরিচালনায় ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা “ইতিহাস।” সিনেমাটি মুক্তির পর সারা দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল এবং আজও এটি দর্শকদের মাঝে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

**সিনেমার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোঃ**

সিনেমাটি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায় আচরণ এবং তা থেকে কীভাবে একটি পরিবার ও সমাজ প্রভাবিত হয়, তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। “ইতিহাস”-এ দেখানো হয়েছে কীভাবে আদরের ছোট ভাই, নিরীহ মারুফ, এক নির্মম পরিস্থিতির শিকার হয়ে ধীরে ধীরে অপরাধের জগতে প্রবেশ করে। সিনেমাটির প্রতিটি মুহূর্তেই ভেসে ওঠে সামাজিক অবক্ষয় ও পরিবারের সমর্থনের অভাব।


**প্রধান কাস্ট এবং পরিচালনাঃ**

পরিচালনা, সংলাপ ও কাহিনীর স্রষ্টা ছিলেন কাজী হায়াৎ, যার অভিনয়ে কাজী মারুফ, রত্না, মৌসুমী ও ডিপজলসহ আরও জনপ্রিয় তারকারা ছিলেন। এই সিনেমার মাধ্যমেই কাজী মারুফের অভিষেক ঘটে এবং তিনি প্রথম সিনেমাতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তবে সে সময় মৌসুমী চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করলেও, তাকে অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়নি, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।

**কাহিনীর প্রেক্ষাপটঃ**01

কাহিনী ঘুরে দাড়িয়েছে মারুফ নামের এক কিশোরকে নিয়ে, যাকে পুলিশ তার বাবার প্রভাবকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করে। এর ফলাফলস্বরূপ এক নিষ্পাপ যুবক ধীরে ধীরে সমাজের কালো দিকের শিকার হয়ে ওঠে। সিনেমাটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি তখনকার সমাজব্যবস্থা ও বর্তমানকালের পরিস্থিতির প্রাসঙ্গিক চিত্র তুলে ধরে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

 কাহিনী সংক্ষেপঃ - 02

 বোনের আদরের ছোট ভাই মারুফ, পড়ালেখা করে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। বাবা পেশায় সাংবাদিক, নাম আহাদ খান। খুব নামকরা সাংবাদিক, এক নামে সবাই চেনে। সততা তার আদর্শ। তিনি তার সন্তানদের গর্ব করে বলেন “তোমাদের জন্য কিছু না করে গেলেও, যে সম্মান আমি পেয়েছি সেজন্য সবাই তোমাদের লাইনের পিছন থেকে সামনে নিয়ে আসবে, কোথাও তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না”।। বাবার এই কথায় যেনো হল মারুফের জন্য কাল। স্কুলে যাবার পথে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, বাবার নাম শুনে মারুফকে হেরোইনখোর হিসাবে কারাগারে আটাকে রাখে। কারন সাংবাদিকের ছেলেকে বিনা দোষে ধরেছে শুনলে পুলিশের অন্যায়ের উপর প্রতিবেদন লিখবে তাই। জামিনে বের হয় মারুফ, ভালো থাকার চেস্টা করে। এই খারাপ সমাজ থেকে চলে যেতে চায় অ্যামেরিকাতে, কিন্তু আবার তাকে পুলিশ আটক করে। শুরু হয় কাহিনী, শুরু হয় এক নতুন ইতিহাস …
**এক্সক্লুসিভ তথ্যঃ**

•» কাজী হায়ৎ এর অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো ছেলেকে নিয়ে একটি চলচিত্র করার। সে জন্য তিনি ৬-৭ টা গল্প লেখেন কিন্তু কোনটাই তার পছন্দ মত না হওয়ায় এর কাজ বন্ধ করে দেন। পড়ে একদিন তার পুরানো পান্ডুলিপি ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে এই গল্পটি পেয়ে যান এবং কিছুটা এদিক সেদিক করে এটাই কাহিনী হিসাবে ঠিক করেন।


- **ছবির নাম পরিবর্তন:** প্রথমে সিনেমার নাম “সন্ত্রাসী মারুফ” রাখা হয়েছিল। তবে একজন পরিচালক পরামর্শ দেন নামটি পরিবর্তন করে “ইতিহাস” রাখার জন্য, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন এই সিনেমা সত্যিই ইতিহাস গড়বে।
- **ডাবিং নিয়ে দ্বিধা:** মারুফের কণ্ঠ নিয়ে সংশয় ছিল, তবে কাজী হায়াত নিজেই ডাবিংয়ে তাকে সুযোগ দেন।

**সিনেমাটির প্রভাব ও জনপ্রিয়তা:**

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে “ইতিহাস” একটি যুগান্তকারী সিনেমা হিসেবে বিবেচিত। এর গল্প, নির্মাণশৈলী এবং হৃদয়স্পর্শী অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।

             •• •• •• •• •• •• •• •• •• ••»★মুভির ভালো লাগার দিক★«•• •• •• •• •• •• •• •• •• •• •»

ইতিহাস মুভিতে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায় এবং তাদের ভুলের পরিণতি দেখানো হয়েছে। •» দেখানো হয়েছে, কি করে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। •» দেখানো হয়েছে, কি করে ভালো ছেলে থেকে ভয়ংকর সন্ত্রাসীতে পরিণত হয়। •» মুভিতে বোঝানো হয়েছে যদি সেই সময় পরিবার তার সাথে থাকতো তাহলে হয়তো ছেলেটি এভাবে অন্ধকার জগতে চলে যেতো না। •» মুভিটি তৎকালীন সময়ের কথা ভেবে তৈরী হলেও মুভিটি বর্তমান সময়ের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। (আমারা তা আশেপাশের অবস্থা দেখলেই বুঝতে পারি) •» মুভির গানগুলো কিন্তু বেশ ভালো ছিলো। বিশেষ করে “তুমি কই তুমি কই” গানটা সেই সময় বেশ জনপ্রিয় ছিলো।

 


এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url