মহেশ ভাট আমাকে সাবধান করলেন। কারণ এই ধরনের আওয়াজ বের করার রিস্ক আছে। " -আশুতোষ রানা
জন্মদিনের শুভেচ্ছা, প্রিয় অভিনেতা
"দুশমন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তখন। কাজলের সাথে সাথে আমার অভিনয়েরও অনেক প্রশংসা হচ্ছে। আমার সেদিকে তাকানোর সময় নেই। অক্ষয় কুমারের সাথে শহর থেকে দূরে জানোয়ার সিনেমার শুটিং এ ব্যস্ত আমি।
এরমধ্যেই একদিন মহেশ ভাট ফোন দিলেন। বললেন- 'সংঘর্ষ' নামের একটা সিনেমা করছি আমি। এখানে লজ্জাশংকর পান্ডে নামের একটা ক্যারেক্টর আছে। ভিলেন ক্যারেক্টর। এই লেভেলের ভিলেন ক্যারেক্টর হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে খুব কম এসেছে। তবে এই ক্যারেক্টারে তোমাকে নিচ্ছি না, 'অমুক' অভিনেতা করবেন এই ক্যারেক্টর।
এই বলে মহেশ ভাট ফোন রেখে দিলেন! আমার খুবই মন খারাপ হল। ভাগ্যবশত পরেরদিন শুটিং এর ব্রেক ছিল। আমি প্লেনে করে মুম্বাইতে ফিরে এলাম। সোজা মহেশ ভাটের কাছে গেলাম। গিয়ে বললাম- পরের সিনেমার জন্য এত ভাল একটা ক্যারেক্টর লিখেছেন, আমাকে নেবেন না কেন? হয় বলে দিন যে আমি একটা জঘন্য অভিনেতা, তা না হলে আপনার পছন্দের অভিনেতা আর আমার- দুইজনের অডিশন নিন, দেখি কে ভাল অডিশন দেয়। আর এরপরে আমার অভিনয় খারাপ হলে আমাকে বাদ দেবেন!
মহেশ ভাট হাসতে শুরু করলেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। হাসতে হাসতে বললেন- আরে, এই ক্যারেক্টর তোমার জন্যই! আমি ইচ্ছে করে এমনটা বলেছিলাম যেন তুমি আমার কাছে দৌড়ে আসো। অনেকদিন দেখাসাক্ষাৎ হয়না তোমার সাথে!
সংঘর্ষের শুটিং শুরু হল। মহেশ ভাট আমাকে বললেন
-রানা, আমি একটা সিগনেচার চাচ্ছি তোমার এই ক্যারেক্টারে।
-সিগনেচার মানে?
-মানে এমন কিছু একটা করো, যা শুধু এই ক্যারেক্টারই করে, আর সেটা হতে হবে খুবই ভয়ংকর! অডিয়েন্স যেন সারাজীবন এরপর থেকে ভয় পায় তোমার এই ক্যারেক্টারের নাম শুনলে, এমন কিছু একটা করো।
আমি ভাবতে লাগলাম আর মহেশ ভাটের সাথে আলোচনা করতে লাগলাম যে কী করা যায়! ইন্ডিয়ার নর্থইস্ট সাইডের মন্দিরে লোকজন এক ধরনের আওয়াজ করে, ঠোঁটের সামনে আঙুল দিয়ে, রেড ইন্ডিয়ান ক্রাই বলে এটাকে। সিদ্ধান্ত নিলাম, এটাই করব।
মহেশ ভাট আমাকে সাবধান করলেন। কারণ এই ধরনের আওয়াজ বের করার রিস্ক আছে। সবাইকে করতে দিলে এটা পারবে না। আমাকে শুধু আওয়াজ বের করলেই হবে না, এমনভাবে বের করতে হবে যেন দর্শক ভয় পায়। একটু এদিক সেদিক হলে এই আওয়াজ দেখতে হাস্যকর লাগবে! আমি ভিলেন হওয়ার পরেও আমাকে স্টুপিড লাগতে পারে জাস্ট এই একটা আওয়াজের জন্য। এতে আমার পুরো ক্যারেক্টারের গ্রাফ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আমি বললাম- টেনশন নিয়েন না, আমি কনভিকশনের সাথে করব। একজন এক্টরের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি যেকোনো রোল কনভিকশন বা বিশ্বাসের সাথে করা। কনভিকশনের সাথে করলে যেকোনো অদ্ভুত কর্মকাণ্ডও দর্শক বিশ্বাস করতে আর সেটা থেকে বিনোদিত হতে বাধ্য!
ক্যামেরা রোল শুরু হল, পরিচালক একশন বললেন, পরিচালকের পাশেই বসে ছিলেন মহেশ ভাট। আমি আমার কাজ করলাম। নিজের শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করলাম আর এমনভাবে করলাম যেন আমাকে প্রচন্ড ভয়ংকর লাগে। আমার মনে আছে, আমার এই রূপ দেখে মহেশ ভাট ক্যামেরা থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছিলেন ভয়ের চোটে। আর প্রীতি জিনতার অবস্থা কী হয়েছিল, সেটা আর না-ইবা বলি!
আর হ্যাঁ, পুরো দৃশ্যটা ওয়ান টেক- এ 'ওকে' হয়েছিল।"
-আশুতোষ রানা
জন্মদিনের শুভেচ্ছা, প্রিয় অভিনেতা! ![]()
![]()
![]()


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url