আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত এক নাম ববিতা
কালজয়ী অভিনেত্রী ববিতা
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং বাংলা চলচ্চিত্রের নন্দিত এক নাম ববিতা। ৭০ এবং ৮০-এর দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে অদম্য নায়িকা হিসেবে যিনি আলো ছড়িয়েছেন, সেই ববিতা আজও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন। সময়ের পরিক্রমায় নায়িকা থেকে সিনিয়র চরিত্রে পরিণত হলেও তার অভিনয়ের দক্ষতা এখনো অতুলনীয়।
জন্ম ও পরিবার
১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন যশোর জেলার বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন ববিতা। তার আসল নাম ছিল ফরিদা আক্তার পপি। পৈতৃক বাড়ি যশোর হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারটি বাগেরহাটে বসবাস করত। ববিতার পরিবার এক অভিনয়শিল্পী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তার বড় বোন সুচন্দা এবং ছোট বোন চম্পা বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এছাড়া চিত্রনায়ক রিয়াজ তার চাচাতো ভাই এবং কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হান তার ভগ্নিপতি।
শিক্ষাজীবন
ববিতার শিক্ষাজীবন শুরু হয় যশোর দাউদ পাবলিক বিদ্যালয়ে। বড় বোন সুচন্দার চলচ্চিত্রে অভিষেকের সুবাদে তারা পরিবারসহ ঢাকায় চলে আসেন এবং গেন্ডারিয়ায় বসবাস শুরু করেন।
চলচ্চিত্রে অভিষেক
ববিতার চলচ্চিত্রে আগমনের ক্ষেত্রে তার বড় বোন সুচন্দা সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন। ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের পরিচালিত সংসার সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। এতে তিনি রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। তার নাম ববিতা হয় জহির রায়হানের জ্বলতে সুরুজ কি নিচে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। নায়িকা হিসেবে তার প্রথম ছবি ছিল শেষ পর্যন্ত, যা মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট, তার মায়ের মৃত্যুর দিনে।
ক্যারিয়ার
ববিতা তার সময়ের সবচেয়ে সফল বাণিজ্যিক নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পান। গ্রামীণ মেয়ের চরিত্র হোক বা আধুনিক শহুরে তরুণীর চরিত্র, প্রতিটি ভূমিকাতেই তিনি দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- গোলাপী এখন ট্রেনে
- অশনি সংকেত
- নয়নমণি
- লাঠিয়াল
- মা
- দীপু নাম্বার টু
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
- ডুমুরের ফুল
- পোকা মাকড়ের ঘর বসতি।
বিশ্বখ্যাত নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ববিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়ান। এ ছবিটি তার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ।
পুরস্কার ও সম্মাননা
অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কারসহ অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনিই শীর্ষে।
ববিতা বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য অধ্যায়, যার নাম যুগের পর যুগ ধরে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হবে।


আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url