itbd69

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের ওপর আক্রমণ: উঠে এলো নির্দেশের কথা


 রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১-এর বিচারক সায়মা আফরীন হীমা মামলার তদন্ত অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের ওপর আক্রমণ: উঠে এলো নির্দেশের কথা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলার ঘটনা প্রায় সাত বছর পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় এবার আদালত সরাসরি তদন্ত কর্মকর্তাকে তাগাদা দিয়েছেন। এই নির্দেশ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—হামলাটি কি শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও পরিকল্পনা কাজ করেছিল?

রোববার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১-এর বিচারক সায়মা আফরীন হীমা মামলার তদন্ত অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এত বছর পরও মামলার অগ্রগতিতে যে ধীরগতি রয়েছে, তা বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী বাজার এলাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। সেই সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের শীর্ষ নেতারা। হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায় এবং মির্জা ফখরুলসহ অন্তত ছয়জন নেতা আহত হন। বহরের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, যা ঘটনাটির ভয়াবহতা তুলে ধরে।


হামলার পর তৎক্ষণাৎ ত্রাণ কর্মসূচি বাতিল করে বিএনপির নেতারা চট্টগ্রাম শহরে ফিরে যান। পরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা বলে দাবি করেন। তবে সে সময় ভয়ের পরিবেশ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে কেউ মামলা করতে সাহস পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তিনি জানান, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরাই ওই হামলায় জড়িত ছিল বলে তখন অভিযোগ উঠলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয়। এর ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। তবে এখানেই বিষয়টি থেমে থাকেনি।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর রিভিশন মামলার শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। এই আদেশের মধ্য দিয়েই নতুন করে আশার আলো দেখেন বাদী ও বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, পুনঃতদন্তে প্রকৃত ঘটনা এবং হামলার পেছনের নির্দেশদাতাদের পরিচয় বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার ওপর আক্রমণ ছিল না; এটি ছিল বিরোধী রাজনীতিকে দমিয়ে রাখার একটি কৌশল। তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা এবং বারবার বাধার অভিযোগ এই সন্দেহকেই আরও জোরালো করেছে। আদালতের সাম্প্রতিক তাগাদা সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

সবশেষে বলা যায়, রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের ওপর হামলার ঘটনা এখন আর শুধু অতীতের একটি সহিংস স্মৃতি নয়; এটি ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং আইনের শাসনের একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দাখিল হলে হয়তো অবশেষে উঠে আসবে সেই প্রশ্নের উত্তর—এই হামলার পেছনে কার নির্দেশ ছিল। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
itbd69
itbd69